প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা আনম রফিক এঁর মৃত্যুতে এনডিএফ’র শোক প্রকাশ
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট- এনডিএফ’র ময়মনসিংহ জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা আ.ন.ম রফিক আজ শুক্রবার রাত ২:৩০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ ঘটে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৭৭ বছর বয়সে তাঁর নিজ বাসভবন চরপাড়া নয়াপাড়ায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি মাহতাব হোসেন আরজু ও সাধারণ সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন এক যুক্ত বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। নেতৃদ্বয় শোক সন্তোপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন, আবু নছর মোহাম্মদ (আ.ন.ম) রফিক মাত্র দেড় বছর বয়সে মাতৃহারা হোন। ২ ভাই ও ৫ বোনের দরিদ্র্য পরিবারে ছোট থেকে খুব অভাব অনটনে আনম রফিক বড় হয়ে উঠেন। বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থায় দারিদ্রতার কষাঘাতে বড় হওয়ার কারণে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার প্রতি ছোট বেলা থেকেই তার ঘৃণা জমে উঠে। পরবর্তীতে উচ্চমাধ্যমিকে এসে কলেজ বন্ধু প্রতাপ দাসের মাধ্যমে ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। এরপর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রে যুক্ত হয়ে ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন শ্রমিক সেক্টরে সংগঠন সংগ্রাম গড়ে তোলেন ও জেলা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হোন। শ্রমিক রাজনীতি করার সময় আন্তর্জাতিকভাবে শ্রমিক নেতাদের সভা সম্মেলনেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় আশির দশকে আনম রফিক কয়েক মাস বুলগেরিয়ায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক নেতাদের এক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ক্রুশ্চেভ সংশোধনবাদের প্রভাবে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থানের সংশোধনবাদের স্বরুপ তিনি প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেন। পরবর্তীতে দেশে এসে নিজ পার্টিতে সংশোধবাদের এই রুপ প্রত্যক্ষ করায় এবং পার্টিতে বুর্জোয়া প্রভাব ও উগ্রজাতীয়তাবাদের প্রভাবে পার্টির ভাঙ্গন অনিবার্য হয়ে যাওয়ায় ৯০ এর পরে ধীরে ধীরে তিনি পার্টি ও ট্রেড ইউনিয়ন থেকে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে কিছুদিন বেসরকারি এক প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করার পর প্রচলিত ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হতে না পেরে নব্বই দশকের শেষদিকে পেশাগত অবস্থান থেকে সরে আসেন।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ২০১২ সালের দিকে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাথে আনম রফিক এর যোগাযোগ গড়ে উঠার মাধ্যমে পুনরায় তিনি ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। জেলা ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের নেতৃত্বে ময়মনসিংহ জেলা রঙ মিস্ত্রি শ্রমিক ইউনিয়ন, ভ্যান-ঠেলাগাড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন,হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন, দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নসহ গার্মেন্টস-টেক্সটাইল ও জুটমিল শ্রমিকদের আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করেন। এসব তৎপরতার মাধ্যমে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হোন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের জেলা সম্মেলনে অন্যতম জেলা সদস্য নির্বাচিত হোন। এছাড়াও তিনি শ্রমিক শ্রেণির অগ্রণী অংশের বিকাশ ও সংগঠন- সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নেতৃদ্বয় বলেন, আনম রফিক এর মৃত্যুতে দেশের শ্রমিক-কৃষক-জনগণ হারালো তাদের অকৃত্রিম এক বন্ধুকে এবং দেশের শ্রমিক শ্রেণি হারালো একজন নির্ভরশীল কর্মি ও নেতাকে।
এছাড়াও আনম রফিক এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা সভাপতি এডভোকেট হারুন-অর-রশিদ; বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির জেলা সভাপতি শাহজাহান মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব রব্বানী; গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির আহবায়ক বাবলী আকন্দ, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের যুগ্ম আহবায়ক উজ্জ্বল রবিদাস ও জাতীয় ছাত্রদলের আহবায়ক সুমাইয়া আক্তার শাপলা।
(প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
An interesting discussion is worth comment. I think that you should write more on this topic, it might not be a taboo subject but generally people are not enough to speak on such topics. To the next. Cheers