অন্যান্য

সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ

শহর প্রতিনিধি:ময়মনসিংহে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল অস্ত্র ও মাদক (বিদেশি মদ) উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর মাসকান্দা এলাকায় সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির নৈশ্যপ্রহরীর রুম থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্র ও মাদক (বিদেশি মদ) উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়াসমিন আক্তার থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান ডিউটি পরিচালনাকালে মধ্যরাতে ৩ জন মোটরসাইকেল আরোহী চেকপোস্ট দেখে মোটরসাইকেল রাস্তায় ফেলে রেখে মাসকান্দা মৎস্য জীব উৎপাদন কেন্দ্রের ওয়াল টপকিয়ে ভিতীে ঢুকে যায়। তখন অভিযানিক দলের সন্দেহ হলে
মধ্যরাতেই পুলিশের একটি টিম অভিযান চালায়, তখন নৈশ্যপ্রহরী হৃদয় মিয়ার শোবার ঘর থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, একটি এয়ারগান, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, বিদেশি মদ, ফেন্সিডিল ও গাঁজা সহ একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। নৈশ্যপ্রহরী হৃদয় মিয়াক সহ আর কাউকেই পাওয়া যায়নি। তখন পার্শ্ববর্তী রুমের পূর্ব দক্ষিণের রুম থেকে চারজন ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যায়।এসময় তার হৃদয় মিয়ার স্ত্রী ফারজানা শান্তাকে (২২) আটক করা হয়েছে।

ধৃত ফারজানা শান্তা স্বীকারোক্তিতে বলে, তার স্বামী হৃদয়, তন্ময় সহ আরো অজ্ঞাতনামা ১/২ জন মিলে স্টাফদের রুমে ঢুকে ছিল। আসামিদের নিয়ে মৎস্য খামারে চাকুরীর পাশাপাশি অস্ত্র ক্রয় বিক্রয় সহ নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয় করে থাকে।

হৃদয় মিয়া ময়মনসিংহের পাগলা থানাধীন নীগুয়ারী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চাকরির সুবাদে তার স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন সরকারি এই খামারে।তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র ও মাদক রেখে ব্যবসার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন খামারের ব্যবস্থাপক হাছেন আলী। তিনি বলেন, মধ্যরাতে পুলিশের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি দেখেছেন।

সার্বিক বিষয় নিয়ে সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) কোতোয়ালি মডেল থানায় ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ড.আশরাফুল রহমান প্রেস ব্রিফিংকালে বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশের বিভিন্ন থানা থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুটপাট হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দেখেছেন ফ্যাসিস্ট রাজনীতিক দলের কিছু হেলমেট বাহিনী বিভিন্ন অস্ত্র এবং হাতিয়ার নিয়ে জনসাধারণের উপর আক্রমণ চালিয়েছে। এই সরঞ্জামগুলো বিভিন্ন জায়গায় এখনো লুকায়িত রয়েছে। তদন্ত করে দেখা হবে এই অস্ত্রগুলো দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর গুলি ছোরা হয়েছে কিনা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাহায্য চেয়েছেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম।